লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সৌর বিদ্যুতের ৯০ লাখ টাকা উত্তোলন তিন মাসেও শুরু হয়নি কাজ !

রংপুর 0 Comment

সজীবুল হক,লালমনিরহাট ।। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জালানী হিসেবে দূত বাস্তবায়নের কথা থাকলেও অর্থবছর শেষ হবার তিন মাস পরও প্রায় ৯০ লাখ টাকার ৪০০টি সোলার হোম সিস্টেম বাস্তবায়নে কোনও কাজই শুরু করা হয়নি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে।

তবে ফেরত যাওয়ার ভয়ে অর্থ বছর শেষ হওয়ার আগেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে সেই টাকা ‘লোপাটের’ আশংকা করছেন। যদিও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, পুরো টাকা তুলে একটি যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।এই বাস্তবতায় একদিকে যেমন প্রত্যাশায় থাকা সুবিধাভোগীরা সৌর বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন  অন্যদিকে কিছুটা হলেও সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে বাধার সৃষ্টি করেছেন খোদ সরকারি কর্মকর্তারাই।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের দ্বিতীয় পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার(কাবিটা/কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় কালীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের জন্য সাধারণ ও বিশেষ কোটায় বরাদ্দকৃত মোট টাকার ৫০ শতাংশের ৩৭টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় সোলার প্যানেল স্থাপনের। এর মধ্যে বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বাড়িতে মোট ৪০০টি প্যানেল স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এসব স্থাপনে মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা। যার পুরোটাই গত ৩০ জুন উত্তোলন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাহীনুর আলম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: রাশেদুল ইসলাম যৌথভাবে সোনালী ব্যাংকের কালীগঞ্জ শাখায় ‘সোলার প্যানেল স্থাপন কর্মসূচি’ নামের একটি যৌথ হিসাব খুলে উত্তোলনকৃত ওই টাকা জমা রেখেছেন। কাজ না করে ফেরত যাওয়ার ভয়ে এভাবে টাকা তুলে পুনরায় যৌথ হিসাবে জমা রাখা নিয়মবহির্ভূত কাজ বলে মনে করেন খোদ অনেক সরকারি কর্মকর্তা। যদিও পিআইও দাবি করেছেন ‘ওই নিয়মে টাকা জমা রাখা যায়’। কিন্তু এর স্বপক্ষে কোনো সরকারি নিয়ম দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, ইডকলসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সূত্রে জানা গেছে, টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির আওতায় মোট বরাদ্দের অর্ধেক সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে ব্যয় করার একটি নির্দেশনা ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর জারী করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। প্রথমে ইডকল অনুমোদিত কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্যানেল কেনার নির্দেশ থাকলেও সর্বশেষ ওই প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট করে দেয়। সে অনুযায়ী গত অর্থ বছরে কালীগঞ্জে ওই ৪০০টি প্যানেল স্থাপনের জন্য নির্ধারণ করা হয় ‘পল্লী শক্তি ফাউন্ডেশন  লিমিটেড (পিএসএফএল) নামের ইডকল অনুমোদিত একটি প্রতিষ্ঠানকে।

গত ৩ এপ্রিল স্বাক্ষরিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত টিআর-কাবিখা কর্মসূচির আওতায় সোলার প্যানেল স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় বলা হয়, ইডকল নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বেই নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানকে মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৫০ শতাংশ টাকা প্রদান করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও। পরবর্তীতে সন্তোষজনক বাস্তবায়নের পর ৩০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট টাকা পরবর্তী ৫ বছরে প্রতি বছর ৪ শতাংশ হারে পরিশোধ করতে হবে। এ নিয়ম অনুযায়ী গত ৩০ জুনের অনেক আগেই কালীগঞ্জ উপজেলার জন্য মনোনীত পল্লী শক্তি ফাউন্ডেশন লিমিটেডের চুক্তি এবং অর্ধেক টাকা পরিশোধের কথা। বাস্তবে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে ওইরকম কিছুই করা হয়নি বলে সোলার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে মাথা ব্যথা শুরু হয় সংশ্লিষ্টদের। ফলে তারা এতদিন পরে এসে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা কৌশল নিতে শুরু করেছে। সেই অনুযায়ী পল্লী শক্তি ফাউন্ডেশনের সাথে প্রকল্প কমিটিগুলো যাতে দ্রুত চুক্তি করে সেজন্য তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন পিআইও। তবে সেই চুক্তি ৩০ জুনের আগেই করা হয়েছে-কাগজপত্রে এমনটি দেখানো হবে বলে জানা গেছে। তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার পর তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের অনেকেই। অপরদিকে বিষয়টি নিয়ে সঠিক কোন ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত কর্মকর্তারা।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গত ২১ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাশেদুল ইসলামের কার্যালয়ে গেলে তিনি প্রথমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে বলে দাবি করেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে প্রমাণ দেখানোর পর তিনি স্বীকার করে নেন যে, এখনও পর্যন্ত একটি সোলার প্যানেলও লাগানো হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই পুরো টাকা উত্তোলন এবং তা পিআইও-ইউএনওর যৌথ হিসাবে রাখার সরকারি কোন নিয়ম থাকলে তা দেখান-সাংবাদিকদের এমন দাবির প্রেক্ষিতে তিনি ওইদিন বলেন, ‘আগামীকাল বৃহস্পতিবার আমি আপনাদের জানাবো’। কিন্তু ওইদিন থেকে নিজের কার্যালয়ে ওই কর্মকর্তাকে আর পাওয়া যায়নি। গতকাল বুধবার পর্যন্ত তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। জানা গেছে, ওই পিআইও অন্যত্র বদলীর জন্য ঢাকায় চেষ্টা চালাচ্ছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাহীনুর আলম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে। এর বাইরে তিনি কিছু বলতে অপারগতা জানান।

জেলা  ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী ৩০ জুনের মধ্যে ওই অর্থ বছরের প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া ঠিক হয়নি স্বীকার করে বলেন, ‘স্থানীয় একটি ঝামেলার কারণে এমনটি হয়েছে তবে তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলে কালীগঞ্জের পিআইও আমাকে জানিয়েছেন’

Category: Product #: Regular price:$ (Sale ends ) Available from: Condition: Good ! Order now!

Author

Leave a comment

Back to Top

Show Buttons
Hide Buttons