রজব আলীর খবর রাখেনা কেউ

রজব আলীর খবর রাখেনা কেউ

দিনাজপুর 0 Comment

গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : স্বাধীনতার তারন্য মুখ আর নেই, বছর তেরো আগে হারিয়ে গেছে এ জগৎ থেকে চীর তরে। স্বাধীনতার বীর সৈনিক হয়ে কি পেলো সে। কেইবা তার খোঁজ রেখেছে। নখে গুনতে গুনতে পেরিয়ে গেলো স্বাধীনতার ৪৫ টি বছর। রজব আলী প্রধান এখন চীর নিদ্রায় শায়িত দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তের মুহাড়াপাড়া গ্রামে।

১৯৭১ সাল। ক্ষেপে উঠেছিলো বাঙ্গালীর দামাম ছেলেরা পাক হানাদার বাহিনীর উপরে। সারাদেশের ন্যায় স্বাধীনতা যুদ্ধে গর্জে উঠেছিলো হিলি সীমান্তবাসী। ন’মাসের কৌশলী ও সন্মুখ যুদ্ধে পরাস্থ হলো পাক হানাদার বাহিনী। এখানে শহীদ হলেন ক্যাপ্টেন আনোয়ারসহ প্রায় চার শতাধিক মিত্র বাহিনী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর যাদের স্বরনে এই মুহাড়াপাড়া গ্রামেই নির্মিত হলো স্মৃতিসৌধ “সন্মুখ সমর”। কিন্তু মরহুম রজব আলীর খবর রেখেছে কি কেউ ? স্বাধীনতাযুদ্ধে এই এলাকা থেকে হানাদার বাহিনীকে পরাস্থ করতে মরন কামড় দিয়েছিলেন তিনি।

তৎকালিন সময়ে হিলি সীমান্ত এলাকা ছিলো পাকবাহিনীর শক্ত ঘাটি। তাদেরকে পরাস্থ করতে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি ছিলেন একমাত্র পথপ্রদর্শক। জীবনকে বাজী রেখে নানা কৌশলে হানাদার বাহিনীর আস্তানার ও তাদের অবস্থানের খবর নিয়ে রাতের আধারে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ছুটতেন আক্রমন করতে। এ ভাবে ন’মাসের ধারাবাহিক যুদ্ধ শেষে পরাস্থ হন হানাদার বাহিনী।

এতোবীরত্বের কাজ করেও দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা খাতায় তার নাম নেই। অনেকেই তালিকাভুক্ত হয়েছেন পরবর্তিতে, কিন্তু মরহুম রজব আলী প্রধান এর নাম তালিকা ভুক্ত করতে স্থানীয় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিসে বছরের পর বছর ধরর্না দিয়েও কোন পাত্তা পাননি তার পরিবারের সদস্যরা। অথচ মরহুম রজব আলী প্রধান এর নামসহ তার কৃত্বিত্বের এ্যলবাম রয়েছে বগুড়া ক্যান্ট যাদুঘরে। সে সময়ে তিনি ছিলেন একজন কমান্ডার।

রজব আলী প্রধান যখন বেঁচে ছিলেন তখন কতবারই না হিলি’র মুহাড়াপাড়ার বাড়ীতে এসেছেন বগুড়া সেনানিবাস থেকে কর্মকর্তাগন। তারাই মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর রাখতেন। তাকে বগুড়া সেনানিবাসে ডেকে পাঠিয়েছেন বহুবার। সবসময় যোগাযোগ রাখার জন্য একটি কার্ড (গইওচই – জবম.হড়. ঐজ ২২৯) দেয়া হয়েছিলো বগুড়া সেনানিবাস থেকে।

মরহুম রজব আলী প্রধান এর বড়ছেলে মো: নূর আলম প্রধান জানান, বাবা বাধ্যক্ষজনিত কারনে মৃত্যু বরন করেন গত ২০০৪ সালের ২৩ নভেন্বর। বাবা’র মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বলতে পারেননা কোন কথা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তার নাম অন্ত:ভুক্ত করেছেন কিনা আজও তার উত্তর খুঁজে পাননি সন্তান নূর আলম প্রধান। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার বাবা কি করতেন তা তিনি দেখেছেন এবং শুনেছেন। এলাকার স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধাগন মরহুম রজব আলী প্রধান কৃতকর্ম সম্পর্কে জানেন।
মুহাড়া পাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম,মুক্তিযোদ্ধা আফতাব হোসেন আতা, প্রবিন ব্যাক্তি মজিবর রহমান, সুরত আলী, মকবুল হোসেন সরদার, মছির সরদার জানান, ৭১ সালে রজব আলী প্রধান মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর গাইডার হিসাবে কাজ করতেন। এবং মুহাড়াপাড়ায় যে ভয়াবহ সন্মুখ যুদ্ধ হয় সে যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর গাইডার হিসাবে রজব আলী প্রধান নেতৃত্ব দেয়।
হাকিমপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী জানান, মরহুম রজব আলী প্রধান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর গাইডার হিসাবে কাজ করতেন।

Category: Product #: Regular price:$ (Sale ends ) Available from: Condition: Good ! Order now!

Author

Leave a comment

Back to Top

Show Buttons
Hide Buttons