মুক্তিযোদ্ধার ভাতার সমঅধিকার চান সন্ধ্যা আচার্য্য

মুক্তিযোদ্ধার ভাতার সমঅধিকার চান সন্ধ্যা আচার্য্য

রংপুর 0 Comment

নিজস্ব প্রতিবেদক : রংপুর নগরীর লালকুঠি এলাকার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নৃপেন্দ্র আচার্য্যর পুত্র বঁধু সন্ধ্যা আচার্য্য’র দিন কাটছে অর্ধাহার অনাহারে। দীর্ঘ ৩০ বছর প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার সেবা করেও শুধুমাত্র আইনী মারপ্যাচে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙাচোরা বেড়ার টিনশেড ঘরের এক পাশে ছোট্ট একটি ঘরে শুয়ে আছেন সন্ধ্যা আচার্য্য। বেড়ার ফাঁক দিয়ে হু হু করে বাতাস ঢুকছে। মোটরসাইকেলের শব্দে বিছানা ছেড়ে উঠলেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে চোখ দিয়ে শুধু অনবরত পানি ঝরছে।
কিছুক্ষন পর পর নিজেকে সামলে নিয়ে সন্ধ্যা আচার্য্য জানান, ২০১৫ সালে মুক্তিযোদ্ধা শ^শুড় মারা যাবার পর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্বামী মোহন লাল আচার্য্য মারা যাবার পর থেকে প্রায় ২০ বছর আমার শ্বশুড় নৃপেন্দ্র আচার্যের সেবা করেছি।  তিনি মারা যাবার পর হিন্দু রীতি অনুযায়ী তাঁর শ্রাদ্ধনুষ্ঠান পর্যন্ত করেছি। তিনি জীবিত থাকা ও মৃত অবস্থায় তাঁর মেয়ে ইতি রানী চট্টোপাধ্যায় ও ধর্মান্তরিত হওয়া বড় মেয়ে জোহরা কোন খোঁজখবর রাখেননি এবং হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কোন অনুষ্ঠানে আসেননি।
অথচ আমার শ^শুড় মারা যাবার পর ছোট মেয়ে ইতি রানী চট্টোপাধ্যায় ও বড় মেয়ে জোহরা খাতুন যোগসাজশ করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রংপুর ইউনিট ও শহর সমাজ সেবা কার্যালয়ে আবেদন করেন। শুধু তাই নয় ধর্মান্তরিত হওয়া বড় মেয়ে জোহরা খাতুন জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে ভাতার জন্য আবেদন করেন। নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে তার প্রকৃত জাতীয় পরিচয়পত্র তোলার পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু তার আবেদন বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা নৃপেন্দ্র আচায্য’র ছোট মেয়ে ইতি রাণীর নামে ভাতা দেওয়ার জন্য শহর সমাজ সেবা কার্যালয়কে নির্দেশ দেন।
এর আগে কমান্ডার তার কাছে অঙ্গীকার নেন যে ভাতার অর্ধেক তিনি সন্ধ্যা দিবেন। এর আগে ইতিরাণী নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে সন্ধ্যা রানী আচার্য্যকে ভাতা দিবেন মর্মে এফিডেভিট সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে ভাতার বহি সম্পন্ন হওয়ার পর ইতি রানী শহর সমাজ সেবা কার্যালয়েও অঙ্গীকার করেন সন্ধ্যাকে তার বাবার ভাতার অর্ধেক দিবেন।
এরপর ইতি রানী কয়েক মাস ভাতা তোলার পর সন্ধ্যাকে নামমাত্র কিছু টাকা দেন। পরবর্তীতে ইতি তার ধর্মান্তরিত বোন জোহরা বেগমের সাথে যোগসাজশ করে তাকে ভাতা দেবেন না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন।
সম্প্রতি ইতি রানীর মেয়ে জামাই চন্দন চক্রবর্তী সন্ধ্যার বাড়িতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধার মুল সনদপত্র চান। সন্ধ্যা রানী তা না দেওয়ায় চন্দন তাকে নানাভাবে হুমকি দেন এবং এর পরণতি ভালো হবে না শাসিয়ে জানান।

সন্ধ্যা জানান, ননদ ইতি রানী ও তার মেয়ে জামাই মোবাইল ফোনে তাকে নানাভাবে শাসাচ্ছেন। তারা বলেছেন, বাংলাদেশ সব সম্ভবের দেশ। আমাদের প্রচুর টাকা আছে। কিছুদিনের মধ্যে আমরা নৃপেন্দ্র আচার্য্যরে মুক্তিযোদ্ধার মুল সনদ জাল করে আনবো। তখন তুমি কি করবা আমরা সেটাই দেখবো।
তিনি বলেন, আমার মেয়ে  ও মেয়ে জামাই আমাকে দেখাশুনা করছেন। তারা যতটুকু দেন তাই দিয়ে কোনমতে দিনযাপন করছি। তিনি যেন তার শ^শুড়ের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান সেজন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইতি রাণী আচার্য্য জানান, আমার ভাই বউ সন্ধ্যা দীর্ঘ ২০ বছর আমার বাবার দেখাশুনা করেছেন। ভাতার প্রাপ্য অধিকার তারই। কিন্তু আইনগতভাবে তার পাওয়ার অধিকার নেই। আমি নোটারী পাবলিক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে অঙ্গীকার করেছিলাম সন্ধ্যাকে ভাতার অর্ধেক অংশ দেব। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সন্ধ্যাকে আমার বাবার ভাতার অংশ দেব না। সে না খেয়ে মরেও গেলেও আমার কিছু করার নেই।
রংপুর শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির প্রস্তাবনা পেলে  আমরা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পুত্র বঁধুর নামে বই করে দিতে পারবো।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রংপুর ইউনিটের কমান্ডার মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু জানান, আইনগতভাবে ভাতার অধিকার তার মেয়ের। তার মেয়ে যদি মানবিক দিক বিবেচনা করে সন্ধ্যাকে ভাতা না দেন তাহলে সেখানে আমাদের কিছু করার নেই।

Category: Product #: Regular price:$ (Sale ends ) Available from: Condition: Good ! Order now!

Author

Leave a comment

Back to Top

Show Buttons
Hide Buttons