পাটগ্রামে কাগুজে স্কুল জাতীয়করণের’ পাঁয়তারা!

পাটগ্রামে কাগুজে স্কুল জাতীয়করণের’ পাঁয়তারা!

লালমনিরহাট 0 Comment

সজীবুল হক সজীব, জেলা প্রতিনিধি, (লালমনিরহাট) : দূর থেকে দেখলে যে কেউ গরু রাখার গোয়াল ঘর মনে করবে। কারণ টিনের ওই খোলা ঘরটির চারপাশে পরে আছে গরুর মলমূত্র। অথচ ওই ঘরটিতেই টানানো হয়েছে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড। যাতে লেখা আছে ‘রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কাগজে-কলমে ১৯৯৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও গত ২৪ বছরের একটি দিনেও সেখানে হয়নি কোন প্রকার পাঠদান। নেই কোন ছাত্র-ছাত্রী। আর যাদেরকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের ২/১ জনকে নিয়েও আছে বিস্তর অভিযোগ। কিন্তু এত কিছুর পরেও উত্তরের জেলা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামের ওই কাগুজে স্কুলকে ‘জাতীয়করণের’ পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই আগামীতে তৃতীয় ধাপে ‘জাতীয়করণের’ সুযোগ নিতেই দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন পাটগ্রামের ওই কাগুজে স্কুলের সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ শিক্ষকরা।
জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ৫ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামে প্রায় ৩৫ শতক জমি দান করেন ওই এলাকার আব্দুল হামিদ খন্দকার। এরপর একটি টিনের ঘর করে তাতে রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ড টানানো হয়। নিয়োগ দেয়া চার জন শিক্ষককে। কিন্তু স্কুলের কার্যক্রম না থাকায় তাদের অনেকেই চলে যান। পরববর্তী আব্দুল হামিদ খন্দকারের পুত্রবধূ ও এক মেয়েকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। আর স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান হামিদুল হক খন্দকারের বড় ছেলে ও জোংড়া ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবির খন্দকার রাজু।
তবে হামিদুল হক খন্দকারের পুত্রবধু সেলিম আরাকে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগদানে নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। কেননা নিকাহ্নামা অনুযায়ী জেলার আদিতমারী উপজেলার মকছুদ হোসেন চৌধুরীর মেয়ে সেলিম আরাকে ১৯৯৭ সালের ০৩ ডিসেম্বর বিয়ে করেন পাটগ্রামের ইসলাম নগর এলাকার আব্দুল হামিদুল হক খন্দকারের মেজ ছেলে হারুন অর-রশিদ। অথচ রহিমা নগর বেসকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে সেলিম আরা‘র স্বামীর নাম হারুন অর রশিদ উল্লেখ করে ১৯৯৩ সালের ১৮ নভেম্বর নিয়োগ দেখানো হয়েছে। তাই বিয়ের ৪ বছর আগে স্কুলের নিয়োগপত্রে স্বামীর নাম হারুন অর রশিদ কিভাবে উঠলো ? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হুমায়ুন কবির খন্দকার রাজু। এমনকি শিক্ষার্থী বিহীন খোলা একটি টিনের ঘরে স্কুলের সাইনবোর্ড লাগিয়ে তা জাতীয়করণের পাঁয়তারা সম্পর্কে জানতে চাইলে? কোন কিছুই বলতে রাজি হয়নি ওই স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি। শুধু তাই নয়, ওই স্কুলের নামে নিয়োগ পাওয়া দু‘জন শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারাও এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীদের কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২৪ বছর আগে গ্রামে আরও একটি প্রাথমিক স্কুল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পরিবারের একগুয়েমির জন্য তা আজ অবধি সচলই হয়নি। ওই স্কুলের সাইবোর্ড সর্বস্ব যে একটি খোলা টিনের ঘর আছে, তাতে প্রায় সময় গরু বেঁেধ রাখা হয়। আর সামনের অংশটি পাকা করে তাতে ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করে আসছে ওই পরিবারটি। ফলে গত ২৪ বছরে একটি দিনেও ওই স্কুলে কোন ক্লাস হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। এরপরেও বর্তমানে অস্তিত্বহীন স্কুলটিকে জাতীয় করণের পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
তবে পাটগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফিরোজুল আলম ফিরোজ বলেন, ওই স্কুলটি আমাদের তালিকায় নেই। কিন্তু সম্প্রতি পাটগ্রাম উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ওই স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একটি অভিযোগের শুনানিতে তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেন।
পাটগ্রাম উপজেলা নিবার্হী অফিসার নূর-কুতুবুল আলম বলেন, ওই স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর তা বসে সমাধান করা হয়েছে। তবে এখনও স্কুলটি জাতীয়করণের জন্য কোন প্রকার সুপারিশ করা হয়নি। পাশাপাশি স্কুলটি সরেজমিন পরির্দশন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Category: Product #: Regular price:$ (Sale ends ) Available from: Condition: Good ! Order now!

Author

Leave a comment

Back to Top

Show Buttons
Hide Buttons