নিধন হচ্ছে রাণীনগরের মুক্ত জলাশয়ের মাছ ॥ নীরব ভূমিকায় মৎস্য অফিস

নিধন হচ্ছে রাণীনগরের মুক্ত জলাশয়ের মাছ ॥ নীরব ভূমিকায় মৎস্য অফিস

রাজশাহী 0 Comment

নাজমুল হুদা, নওগাঁ ।। নওগাঁর রাণীনগরে একই খালে পাঁচটি নিষিদ্ধ সুতির জাল দিয়ে রক্তদহ বিল সহ বিভিন্ন জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া মুক্ত মাছ নিধন করছে কতিপয় কিছু অসাধু মহল।

কোন কিছুকে তোয়াক্কা না করে মৎস্য অফিসের নাকের ডগায় এই অবৈধ নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরলেও নীরব ভূমিকায় মৎস্য সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য রক্তদহ বিল সংলগ্ন বিল আবড়ায় কয়েক মণ মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। যাতে এই মাছ গুলো মুক্ত জলাশয়ে বড় হয়ে এলাকার বিভিন্ন খাল ও জলাশয়ে বড় হয়ে বংশ বিস্তার করবে।

তাই এই সব মুক্ত জলাশয়ে সারা বছর মাছ পাওয়া যাবে। এতে এই সব মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ ধরে এলাকার গরীব মৎস্যজীবীরা জীবিকা নির্বাহ করবে। কিন্তু কতিপয় মহলের সঙ্গে আঁতাত করে কিছু কতিপয় মৎস্যজীবীরা নিষিদ্ধ সুতির জাল দিয়ে বড় না হতেই সব রকমের মাছ ধরে ফেলছে।4

এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের মাছ বংশ বিস্তার করতে না পারায় মুক্ত জলাশয় থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরের বেলোবাড়ি-দাউদপুর, সিংড়াডাঙ্গা ও সাতানী (পূর্ব চকবোলারাম) গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে রক্তদহ বিল থেকে আসা রতনডারী খাল।

সম্প্রতি উপজেলার এই খালগুলো সরকার পুনরায় খনন করেছে যাতে এই খালগুলোতে সারা বছর পানি জমে থাকে এবং ছেড়ে দেওয়া মাছ গুলো মুক্ত ভাবে বড় হয়ে বংশ বিস্তার করতে পারে। আর এই খালগুলো থেকে সারা বছর এলাকার সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবীরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। অথচ এই খালের পাঁচ জায়গায় সিংড়াডাঙ্গা গ্রামের রসুল প্রামাণিকের ছেলে ইসারুল বাসার (২৫) ও বায়েজিদ (২০) একই গ্রামের মৃত- সামুদ আলীর ছেলে হাবিব (১৫), গোলাম মোস্তফার ছেলে রাকিবুল ইসলাম রনি ( ১৫) ও মৃত- ওসমানের ছেলে বাবু (৪০) মৎস্য আইন ও উপজেলা মৎস্য অফিসকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে নিষিদ্ধ এই সুতির জাল দিয়ে প্রায় দুই মাস যাবত মাছ ধরে আসছে।

এতে এই অঞ্চলে মা মাছ থেকে শুরু করে সকল প্রকারের মাছ ধরা পড়ছে এই মরণ ফাঁদ সুতির জালে। অর্থের লোভে পোনা মাছ থেকে শুরু করে মা মাছ পর্যন্ত ধরে বাজারে বিক্রি সহ চালান করছে দেশের বিভিন্ন বড় বড় বাজারে। স্থানীয় মৎস্যজীবী সাইদুল ইসলাম (৪০) জানান, আমরা আদি পুরুষ থেকে মৎস্যজীবী। মাছ ধরে আমরা জীবিকা নির্বাহ করে আসছি।

বর্তমানে আগের তুলনায় আর মাছ পাওয়া যায় না। বর্ষা মৌসুমে যে টুকু মাছ পাওয়া যেতো তা আর এখন পাওয়া যায় না। কারণ মুক্ত জলাশয়ে আগের মতো আর মাছেরা বংশ বিস্তার করতে পারছে না। এই রতনডারী খালে এক সময় প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো।

প্রায় দুই মাস হয়ে গেলো প্রভাবশালী মহলের জোরে কতিপয় মৎস্যজীবী নামধারী ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ এই সুতির জাল দিয়ে মাছ ধরছে এই খালে। এই জাল থেকে কোন প্রকারের মাছ বের হতে পারে না। তাই এই জাল দিয়ে দিন-রাত মাছ ধরার কারণে মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান জানান, সুতি জাল নিষিদ্ধ। এই জাল দিয়ে মাছ ধরা বেআইনি । অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Category: Product #: Regular price:$ (Sale ends ) Available from: Condition: Good ! Order now!

Author

Leave a comment

Back to Top

Show Buttons
Hide Buttons