দ্বিতীয় ধরলা সেতুর কাজ দ্রুত এগুচ্ছে

দ্বিতীয় ধরলা সেতুর কাজ দ্রুত এগুচ্ছে

কুড়িগ্রাম, ফীচার্ড 0 Comment

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্মানাধীন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর ধরলা নদীর উপর দ্বিতীয় ধরলা সেতুর কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ২০১৩ সালে মে মাস থেকে শুরু হওয়া সেতুটির কাজ ২০১৬ সালের জুলাইয়ে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে সেতুর ৪৬% কাজ সমাপ্ত হয়েছে। যেভাবে কাজ এগুচ্ছে তাতে বাকি ৫৪% কাজ শেষ হবে এ বছরের জুলাইয়ের মধ্যে। আর কাজ শেষ হলেই এ বছরের যেকোনো দিন খুলে দেয়া হবে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য।
প্রাপ্ত সুত্রে জানা যায়, বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর হয়ে ফুলবাড়ীর দ্বিতীয় ধরলা সেতু দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যসহ অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য গুলির সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের পন্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে। যুগান্তকারী অগ্রগতি ঘটবে বাংলাদেশসহ ভারতের সেভেন সিস্টারস নামে খ্যাত উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৭ টি রাজ্যের। রাজ্য ৭টি হলো- আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও অরুনাচল। একই সাথে এসব রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংরাবান্ধা হয়ে কোলকাতার যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উপজেলা এলজিইডি সুত্রে জানা গেছে,ধরলা নদীর উপর দ্বিতীয় ধরলা সেতুটি কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলাকে সংযোগ ঘটাবে। সেতুটির ৯৫০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজের জন্য বর্তমান সরকার বরাদ্দ করেছে প্রায় ১৯২ কোটি টাকা। কাজটি পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাভানা। ইতোমধ্যে সর্বমোট ২৪০টি পাইলের কাজ সম্পন্ন করেছে। অ্যাবাটমেন্ট ও পিয়ারের পাইল ক্যাপ মোট ২০ টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৬টি বেজে পিয়ার কলামের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সেতুটির লালমনিরহাট প্রান্তের অ্যাবাটমেন্ট ওয়ালের প্রায় দুই- তৃতীয়াংশ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া নদী শাসন কার্য্যক্রমের অংশ হিসেবে আর সিসি ব্লক তৈরী চলছে। সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের মাটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিদিন এখানে কাজ করছেন দু’শতাধিক। প্রতিদিনেই ক্রেন,ড্রোজার,জেনারেটর,এক্সকোভেটর সহ আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি। নিমার্ণ শৈল্প দেখতে ভীড় করছে লোকজন। সেতুটির উপর দিয়ে সাধারণ লোকদের চলার জন্য দু’পাশে ১ মিটার করে দু’মিটার ফুটপাতও থাকবে।
ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলজিইডি’র সচিব আবদুল মালেক মিয়া, প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী, সেতু নির্মান কাজের প্রকল্প পরিচালক আল্লাহ হাফিজ ও কুড়িগ্রাম এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমিন ।
গত সোমবার পড়ন্ত বিকেলে সরেজমিনে গেলে কথা হয় সেখানে নিয়োজিত কর্মী ও সুপারভাইজারদের। রড মিস্ত্রি মমিনুল (২৫), আফজাল (২৩), লাভল ু(২৪), রফিকুল (২১), বাবু (২৪) ইলেক্ট্রিকেল টেকনিশিয়ান জামিলসহ উপস্থিত কর্মীরা জানান, সেতুর কাজ দ্রুতগতি চলছে। সমস্যা নেই কিছুর। আওয়ামীলীগের ব্যাপক সফলতা। আমাদের মনে হয় এ সরকার উন্নয়নের রুপকার। তা নাহলে জেলায় এক ধরলায় দু’টি সেতু কি ভাবে হয়। এখানের মানুষরা অনেক ভালো মিশূক।
পিলার নম্বর সাত থেকে ১৩ নম্বরের কাজে থাকা প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম জানান, তার জীবনে যতগুলো সেতুর কাজ দ্রুত হতে দেখেছেন তার চেয়েও বেশি দ্রুতগতিতে চলছে ধরলা সেতুর কাজ। এটা একটি এ সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
তবে সমস্যার মধ্যে একটাই সমস্যা শ্রমিকরা মাংস খেতে পারলেও পরিমান মত মাছ খেতে পারেন না। তারা জানান, দিনের বেলা মাংস পাওয়া গেলেও তারা যখন কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় মেসে ফেরেন তখন আর বাজার করার সময় থাকে না। ফলে মাছও খেতে পারেন না তারা।
ইউএনও দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, এ সেতুটি চালু হলে পশ্চাদ পদ উপজেলাটির উন্নয়নের সোপান হিসাবে বিবেচিত হবে। ফলে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলাসহ দেশের মানুষের চাওয়া পাওয়ার যে সমস্যা ছিল তা মিটিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শামসুল আরেফীন খান সেতুর কাজে সন্তোস প্রকাশ করে জানান,যেভাবে কাজ চলছে কোনো বিপত্তি না ঘটলে আসছে জুলাইয়ের পর পরই সেতুটি চলাচলের উপযুক্ত হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী জাকিরুল ইসলাম ও আনারুল ইসলাম জানান, সেতুটি চালু হলে ভুরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর হতে ঢাকার দুরত্ব কমে আসবে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ। এটি ফুলবাড়ীর উন্নয়নে মাইল ফলক।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাহার আলী, কবির মামুদের মেম্বার শাহ আলম, মন্টু মেম্বার, হরিকান্তসহ অনেকেই জানান, সেতুটি চালু হলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার প্রায় দশ লক্ষ্য মানুষ উপকৃত হবে।

Category: Product #: Regular price:$ (Sale ends ) Available from: Condition: Good ! Order now!

Author

Leave a comment

Back to Top

Show Buttons
Hide Buttons