তারাগঞ্জে হিন্দু ধর্মাবলী পরীক্ষার্থীদের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ

রংপুর 0 Comment

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ তারাগঞ্জে হিন্দু ধর্ম বিষয়ে পরীক্ষা না নিয়ে হিন্দু শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে ইসলাম ধর্ম বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে উপজেলার পশ্চিম কাচনা খামার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বার্ষিক পরীক্ষায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর হিন্দু শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্ম বিষয়ে পরীক্ষা নেয়ায় এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়েছে। গত বছর বার্ষিক পরীক্ষায়ও এভাবে পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। জানাগেছে, গত ১০ ডিসেম্বর (রবিবার) তারাগঞ্জ উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে এক যোগে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। গত ১৮ ডিসেম্বর (রবিবার) ইসলাম শিক্ষা ও হিন্দু ধর্ম শিক্ষা বিষয়ে বিদ্যালয় গুলোতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন তারাগঞ্জ কাচনা খামার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ হিন্দু ধর্মের শিক্ষার্থীদের হিন্দু ধর্মের প্রশ্নপত্র সরবরাহ না করে ইসলাম শিক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে তাদের ইসলাম শিক্ষার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেন তিনি। প্রথমত শিশু শিক্ষার্থীদের বিষয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজ-খবর না নেয়ায় ঘটনাটি প্রকাশ না পায়নি। ঘটনাটির বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গতকাল বুধবার বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় তৃতীয় শ্রেনী শিক্ষার্থী সাগর, মিলন ও অন্তর ও চতুর্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী মৌমিত, স্মৃতি, সহ বেশ কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থী বলেন, আমরা হিন্দু ধর্ম পরীক্ষা না দিয়ে ইসলাম ধর্ম পরীক্ষা দিয়েছি। হেডস্যার পরীক্ষার দিন ইসলাম ধর্মের ছাত্র/ছাত্রীদের বেঞ্চে বসিয়ে তাদের পরীক্ষার খাতা দেখে আমাদের লেখতে বলেছেন আমরা ও পরীক্ষার খাতা দেখাদেখি করে লেখেছি। এসময় বেশ কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থীদের অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি সন্তানদের কাছ থেকে জানার পর অবাক হয়েছে। কিন্তু আমাদের কি করার আছে। হেড মাষ্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে উপবৃত্তির সমস্য হবে ভেবে অভিভাবকরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২ জন শিক্ষক জানান, ওই বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে ২১ জন ও চতুর্থ শ্রেনীতে ১২ জন হিন্দু শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন এত কিছু তো ভাই বুঝিনি। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মুনিরা বেগম বলেন, প্রশ্ন পত্র তো সব স্কুলেই সরবারহ করা হয়েছে। প্রশ্ন পত্রের সংকট ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

Category: Product #: Regular price:$ (Sale ends ) Available from: Condition: Good ! Order now!

Author

Leave a comment

Back to Top

Show Buttons
Hide Buttons