কালাইয়ের আইয়ুব আলীর বিশেষ মাপযন্ত্র

কালাইয়ের আইয়ুব আলীর বিশেষ মাপযন্ত্র

রাজশাহী 0 Comment

জেলা প্রতিনিধি (জয়পুরহাট) : নাম আইয়ুব আলী। বয়স ৪৫ বৎসর। বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাবিরাট বাজার এলাকায়। জন্ম থেকে সে পঙ্গু। সে সংসারের একমাত্র সন্তান। ১২ বছর বয়সে মারা যায় বাবা ও মা। জন্মগত পঙ্গু হওয়ায় প্রতিবেশীরাও তাকে দেখে ঘৃনা করে। খাবার দিতে হবে এমন ভয়ে কেউ তার সাথে দেখা পর্যন্ত করে না। বাধ্য হয়ে জীবন চলার তাগিদে ভিক্ষার থালা নিয়ে রাজাবিরাট বাজারের এক গলিতে প্রতিদিন বসে সে। কয়েক মাস ভিক্ষা করে কিছু টাকা জমায়ে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষকের পরামর্শে ১১’শ টাকায় কিনে নেয় একটি মানুষের ওজন মাপার মাপযন্ত্র।
সেই মাপযন্ত্র নিয়ে আশে-পাশের বেশ কয়েকটি হাট-বাজারে গিয়ে ওজন মাপার ব্যবসা করেন তিনি। রোজগারও বেশ ভালই হয়। এমনি ভাবে চলে তার জীবন। ২২ বছর বয়সে সে সংসার গড়ার চিন্তা করেন। তেমনী ভাবে বাজার এলাকায় বিয়েও করেন তিনি। কয়েক বছরের মধ্যে সংসারে যোগ হয় দুই মেয়ে ও এক ছেলে। সংসারে জনসংখ্যা বেশী হওয়ায় এখন সে আর ওই এলাকার হাট-বাজারগুলোতেই নয়, পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলার অধিকাংশ হাট-বাজার গুলোতেও মাপযন্ত্র নিয়ে মানুষের ওজন মাপার ব্যবসা করে সংসার চালাই সে। গত হাটবারে তার সাথে আমাদের এই প্রতিনিধির দেখা হয় উপজেলা ১নং গেটের পশ্চিম পার্শ্বে শাওন ফার্মেসীর সামনে। তার সাথে কথা হয় দীর্ঘক্ষণ। কথার ফাঁকে আয়ুব আলী কয়েকজন ভদ্র লোককে দেখে তার ব্যবসার বুলি ছাড়ে বলেন, ভাই, ও ভাই ওজন মাপেন, ওজন মাপেন, সারা জীবন সুখে থাকেন। এভাবেই তিনি মাপযন্ত্র দিয়ে মানুষ মাপার ব্যবসা করে সংসার চালান এবং তার সাথে এলাকায় বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। তাইতো তাকে ছোট-বড় সবাই আদর করে আয়ুব চাচা করে ডাকেন।
সংসার জীবন ও ব্যবসার গল্প শোনাতে আয়ুব আলী দু-চোখের জল ফেলতে ফেলতে জানান, জন্ম থেকেই সে পঙ্গু। ১২ বৎসর বয়সে মারা যায় বাবা ও মা। সংসার বলতে কিছুই ছিল না তাদের। ঠিকমত দু’বেলা খাওয়া-দাওয়াও মিলেনি তার কপালে। আর প্রতিবেশীরা খাওয়ানোর ভয়ে কেউ দেখা পর্যন্ত করত না তার সাথে। তাই তো সে খাওয়ার জন্য এক সময় বাজারে ভিক্ষা করত। হাটে হাটে মাপযন্ত্রের ব্যবসা করে খরচ বাদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আসতো । সেই টাকা থেকে প্রতিদিন ২০ টাকা করে রেখে কয়েক মাসে হাজার দেড়েক টাকা জড়ো করেছিলেন সে। একজন শিক্ষকের কথা মতে একটি মানুষ মাপার যন্ত্র কিনে ব্যবসা করতেন তিনি। সেই থেকে তিনি ভিক্ষা করা বাদ দিয়ে ব্যবসায় মনোযোগ দিয়েছিলেন । পাশাপাশি সংসার চলার তাগিদে বউকে দিয়ে ঝি এর কাজ করান অন্যর বাড়ীতে। কষ্টের মাঝে এভাবেই চলে আসছে তার সংসার। দেশ বাসীর নিকট আয়ুব আলীর দাবী, সে আর সমাজের বোঝা হয়ে বাঁচতে চায় না। দেশের সকল পঙ্গুরা যেন আত্মনির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকার পাশাপাশি চলা-ফেরা করতে পারে।

Category: Product #: Regular price:$ (Sale ends ) Available from: Condition: Good ! Order now!

Author

Leave a comment

Back to Top

Show Buttons
Hide Buttons