এমপি লিটনের মরদেহ ঢাকায়

এমপি লিটনের মরদেহ ঢাকায়

জাতীয়, টেক, প্রবন্ধ, রংপুর 0 Comment

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটনের ময়না তদন্তে তার ফুসফুস, লিভার, পেটে প্রচুর পরিমান জমাটবাঁধা রক্ত পেয়েছে ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা। উদ্ধার করা হয়েছে ১ টি গুলি। তার বুকে ও হাতে ৫ টি গুলি করা হয়েছে। অন্যদিকে রোববার দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে তার প্রথম নামাজে জানাযা শেষে তাকে বেলা সোয়া ২ টায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ১০ টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার দ্বিতীয় জানাযা শেষে তাকে বিকেলে হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় বাছোহাটি গ্রামে জানাযা শেষে তাকি সমাহিত করা হবে।

শনিবার সন্ধায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন এমপি মনজরুল ইসলাম লিটন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ৭ টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. বিমল চন্দ্র রায়। এরপর তার লাশের ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। রোববার সকাল ৯ টায় হিমঘর থেকে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় মর্গে।

ময়না তদন্ত সম্পন্ন: মর্গে এমপি লিটনের মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে ডা. খায়রুল ইসলাম ও ডা. রেজাউল করিম।

ময়না তদন্ত  শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনিমেষ মজুমদার জানান, এমপি লিটনের বুকে তিনটি এবং বাম হাতে দুই টি গুলি করা হয়েছিল। বুকে সামন দিক থেকে দুইটি এবং পেছন দিক থেকে একটি গুলি করা হয়। তার শরীর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তার ফুসফুস লিভার, পেটে প্রচুর পরিমান জমাটবাঁধা রক্ত পাওয়া গেছে।

প্রথম জানাযা সম্পন্ন: ময়না তদন্ত শেষে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের মর্গ থেকে লিটনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গোসল করানোর জন্য। সেখান থেকে দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটে তার মরদেহ আনা হয় রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে। সেখানে প্রথমে তাকে প্রথমেই গার্ড অব অনার প্রদান করেন ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, র‌্যাব-১৩ এর সিও এটিএম আতিকুল্লাহ, ডিসি রাহাত আনোয়ার, এসপি মিজানুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা। পরে তার নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন পুলিশ লাইন স্কুলের জামে মসজিদের খতিব মাওলানা খন্দকার মোসাব্বিরুল ইসলাম। তার নামাজে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর সিটি মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সেক্রেটারী রেজাউল করিম রাজু, মহানগর সভাপতি শাফিয়ার রহমান শাফি, সাধারন সম্পাদক তুষারকান্তি মন্ডল, সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, এসপি মিজানুর রহমান, কোতয়ালী  থানার ওসি জাহিদুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা এবং সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আওয়ামীলীগ এবং সহযোগি সংগঠনগুলোর কয়েক হাজার নেতাকর্মী। নামাজে জানাযা শেষে তার মরদেহে কেন্দ্রীয় আওমীলীগের পক্ষে যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর বেলা ২ টা ২০ মিনিটে মাঠ থেকে তাকে নিয়ে হেলিকপ্টার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এসময় হাজার হাজার নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

দাফন সূচি: আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, আজ সকাল ১০ টায় ঢাকায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার দ্বিতীয় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেলে তাকে হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার নিজ গ্রামে নেয়া হবে। সেখানে নামাজে জানাযা শেষে তাকে পিতামাতার পাশে দাফন করা হবে।

নানক এমপি: আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন সব সময় সুন্দরগঞ্জে জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। সেকারনে তিনি সব সময় জামায়াত শিবিরের থ্রেটের মুখে থাকতেন। তারাই এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। রোববার সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের মর্গের সামনে প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জামায়াত শিবির আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তা-ব চালাচ্ছে। এমপি লিটন হত্যাকান্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে জামায়াত শিবির এখনও তৎপর। এদেরকে রুখে দিতে হবে। তিনি আইনশৃংখলাবাহিনীকে অবিলম্বে ঘাতকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহবান জানান। এসময় সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, এসপি মিজানুর রহমান, কোতয়ালী থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম সহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সেখানে ছিলেন নিহত এমপি লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদা জাহান স্মৃতি, দুলাভাই ড. আব্দুল্লাহেল বারি, বড় বোন আফরোজা বাড়ি, স্ত্রীর ভাই দিদারুল আহসানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

মোজাম্মেল হক এমপি : এদিকে জানাযা নামাজের আগে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এই হত্যাকা›ডটি পরিকল্পিত। তাকে তারাই হত্যা করেছে যারা ৭১ এ এদেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। ধর্মের নামে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে তারা এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। তিনি সুন্দরগঞ্জে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিলেন। সেকারনে তিনি তাদের টার্গেটে ছিলেন। তারাই তাকে হত্যা করেছে।

মাহবুবা আরা গিনি এমপি : নামাজে জানাজা শেষে মাহবুবা আরা গিনি এমপি বলেছেন কিছুদিন আগে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর লিটন আমাকে বলেছিল আপা সরকারতো আমার লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা নিয়েছে। এলাকায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। সুন্দরগঞ্জে স্বাধীনতা বিরোধীরা বিশংখলা করতে পারে। এমনকি আমাকেও মেরে ফেলতে পারে। আপা একটু খেয়াল রাখিয়েন।

Category: Product #: Regular price:$ (Sale ends ) Available from: Condition: Good ! Order now!

Author

Leave a comment

Back to Top

Show Buttons
Hide Buttons